সেপ্টেম্বর থেকে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলন বাড়াবে ওপেক প্লাস

অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলনকারী দেশগুলোর জোট ওপেক প্লাস সেপ্টেম্বর থেকে দৈনিক ৫ লাখ ৪৭ হাজার ব্যারেল উত্তোলন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলনকারী দেশগুলোর জোট ওপেক প্লাস সেপ্টেম্বর থেকে দৈনিক ৫ লাখ ৪৭ হাজার ব্যারেল উত্তোলন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বাজারের অংশীদারত্ব পুনরুদ্ধারের কৌশলের অংশ হিসেবে পদক্ষেপটি নেয়া হয়েছে। রাশিয়ার সঙ্গে যুক্ত সরবরাহ ঘাটতির আশঙ্কা এ সিদ্ধান্তের পেছনে ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। খবর রয়টার্স।

গতকাল সংক্ষিপ্ত এক ভার্চুয়াল বৈঠকে ওপেক প্লাসের আটটি সদস্য দেশ উত্তোলন বৃদ্ধির বিষয়ে একমত হয়। বৈঠকের আগে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ভারতকে রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি বন্ধের জন্য চাপ দেয়া হয়েছিল। ওয়াশিংটন মনে করছে, অর্থনৈতিক চাপ বাড়লে মস্কো ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে আলোচনায় বসতে বাধ্য হবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি চান ৮ আগস্টের মধ্যে এ প্রক্রিয়ার অগ্রগতি হোক।

ওপেক প্লাস বৈঠক শেষে জানিয়েছে, বৈশ্বিক অর্থনীতি শক্তিশালী ও মজুদ কম থাকায় উত্তোলন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে জোটটি আগের ২৮ লাখ ব্যারেল দৈনিক কাটছাঁট পুরোপুরি প্রত্যাহার করেছে। পাশাপাশি সংযুক্ত আরব আমিরাতকে অতিরিক্ত ২ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল জ্বালানি তেল উত্তোলনের অনুমতি দেয়া হয়েছে।

এর আগে এপ্রিল থেকে জোটটি ধাপে ধাপে উত্তোলন বাড়িয়ে আসছে। প্রথমে দৈনিক ১ লাখ ৩৮ হাজার ব্যারেল বাড়ানোর পর মে, জুন ও জুলাইয়ে বাড়ানো হয় ৪ লাখ ১১ হাজার ব্যারেল করে। এরপর আগস্টে ৫ লাখ ৪৮ হাজার ও সেপ্টেম্বরে ৫ লাখ ৪৭ হাজার ব্যারেল উত্তোলন বাড়ানোর ঘোষণা এসেছে।

ওপেক প্লাস বিশ্বের মোট অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলনের প্রায় অর্ধেক নিয়ন্ত্রণ করে। জোটটিতে ওপেকের বাইরের ১০টি দেশ রয়েছে, যার মধ্যে রাশিয়া ও কাজাখস্তান গুরুত্বপূর্ণ সদস্য।

বর্তমানে জ্বালানি তেলের দাম উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজার আদর্শ ব্রেন্টের দাম শুক্রবার ব্যারেলপ্রতি ৭০ ডলারের কাছাকাছি স্থির হয়, যা এ বছরের এপ্রিলের প্রায় ৫৮ ডলারের তুলনায় বেশি।

৭ সেপ্টেম্বর আবারো বৈঠকে বসবে ওপেক প্লাস। সেখানেই ২০২৬ সালের শেষ পর্যন্ত বহাল থাকা দৈনিক ১৬ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল স্বেচ্ছায় উত্তোলন কমানোর সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা হতে পারে। এছাড়া ২০ লাখ ব্যারেল কাটছাঁটও ওই সময় পর্যন্ত বহাল থাকবে।

ভারতের দুই সরকারি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শাস্তিমূলক হুমকি সত্ত্বেও দেশটি রাশিয়া থেকে জ্বালানি তেল আমদানি অব্যাহত রাখবে।

আরও